✨ইগনোর, ফরওয়ার্ড এন্ড ফোকাস অন মিশন✨
রমজানে হুজুর তার শায়খের সাথে এতেকাফে ইন্ডিয়া ছিলেন। বাতেন সাহেব হুজুরকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করলেন। বাসায় নিয়ে গেলেন। জামিয়ায় যাওয়া যাবেনা। কিছু দুবৃত্ত দখল করে নিয়েছে মাদ্রাসা!!
মাদ্রাসার বাইরে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু ছাত্র ঘুরাফেরা করছে। আমি ভিতরে ঢুকলাম। দাওরা হাদিসের রুমে আওয়ামী ভদ্রলোকেরা সিগারেট মত কিছু টানছেন। পাশে মোটা মোটা গজারির লাঠি। প্রতিটি রুমে নতুন নতুন তালা ঝুলছে। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রস্থান করলাম।
ভর্তির সময় চলছে। সব মাদ্রাসাতেই রমজানের পরে ভর্তি। হুজুর অবস্থান নিলেন আজাদ মসজিদে। এক সময় হুজুর আজাদ মসজিদের খতিব ছিলেন। অবাক করা বিষয় হচ্ছে শতাধিক ছাত্র ভর্তি হয়ে গেলো একজন শিক্ষকের কাছে। যার কোন মাদ্রাসাই নেই।
গেটে এসে সবাই খবর নেয় হুজুর কোথায়? যখনই শোনে তিনি ওখানে আছেন তখন ভোমর ছোটে মধু আহরণে। যাদের কাছে বিল্ডিং আর অসম্ভব সুযোগ সুবিধাও ঢের কোন ছাই।
এখানে বলে রাখা ভালো, হুজুর দখলের ব্যপারে একেবারে অসহায় ছিলেন এমন ছিলোনা। তৎকালীন একজন স্বক্ষম ব্যাক্তি এই প্রস্তাবও দিয়েছিলেন "হুজুর অনুমতি দেন মাদ্রাসা পুনঃ দখল এক রাতের ব্যাপার মাত্র"। শায়খ বলেছিলেন " আমি জানি এর পরিণাম কখোনোই ভালো হয়না।
হুজুর বলতেন মাদ্রাসা "ইট পাথরের দেয়ালের নাম নয়"। তাহলে মাদ্রাসা কিসের নাম? তখন প্রত্যক্ষ বুঝা গেল ছাত্র ওস্তাদের মহব্বতের সম্পর্ক আর অন্তর থেকে অন্তরে ইলম আদান প্রদানের নামই মাদ্রাসা।
যেহেতু গুলশান আজাদ মদজিদে তখন জামায়াতে মওদুদির প্রচুর প্রভাব ছিলো। তারা জানতো শায়খ যে মাত্রায় ধর্মনিরপেক্ষ ধর্মের বিরোধী, তেমনিভাবে সাহাবী বিদ্বেষিদের ব্যপারেও স্বরব ব্যাক্তিত্ব। হুজুরকে আজাদ মসজিদ থেকেও বিতারিত করা হলো। এখানেও হুজুর কোন চেষ্টা না করে সংঘাত এড়িয়ে গেলেন।
তিনি তার প্রানাধিক প্রিয় ছাত্রদের নিয়ে ছুটে চললেন নতুন গন্তব্য পানে। কুড়িল মহিলা মাদ্রাসা মসজিদে এসে থিতু হন। অসংখ্য কিতাবাদি সহ সমস্ত ফ্যাসিলিটি ছেড়ে এসেছেন বারিধারায়। কিছুই বের করতে দেয়া হয়নি। না খেয়ে না ঘুমিয়ে কাফেলা চলছে একস্থান থেকে অন্যস্থানে। এর মধ্যে ক্লাশও চলছে।
সেখানে আবার ধর্মনিরপেক্ষ দৈত্য এসে হাজির। এখানে থাকা যাবেনা। ছাড়তে হলো কুড়িল মহিলা মাদ্রাসা মদজিদ।
এবার জমজ রোডের লন্ডনি বাড়ি ভাড়া নিলেন। আন্ডার কন্সট্রাকশন। জানালা দরোজা কিছুই লাগানো হয়নি। কিন্তু সামর্থ্য আর প্রয়োজনের সংঘাতে এইতো ঢের ভালো। এখনতো কেউ বের করে দিতে পারবেনা...
রাতে বৃষ্টি এলে সবাই গাট্টি বোস্কা গোল করে বসে থাকে রুমের মাঝখানে। বৃষ্টি শেষে আবার ঘুম! যদি তা সম্ভব হয়!! কোনদিন কোন মুহিব্বিন ডোনার এসে দিয়ে যায় চাল। সেদিন পেট ভরে ভাত দিয়ে। আর যেদিন কেউ গরু কিংবা খাসি দিয়ে যায় সেদিন পেট ভরে গোস্তের সালুন। অবশ্য কখনো কখনো ভাত তরকারি একসাথেও সাক্ষাতে আসে তবে তা নেহায়েতই কম।
ওস্তাদ সাগরেদের এই ত্যাগ তিতিক্ষার উপাখ্যান আপনি কোন কালি দিয়ে লিখবেন! এই ভালোবাসা এই মহব্বতের নজির আপনি কোন ভাষায় বর্ণনা করবেন!! ছাত্র অভুক্ত থাকলে অভুক্ত ক্রন্দনে জায়নামাজ ভেজান বৃদ্ধ শিক্ষক। বাসাবাড়ি ছেড়ে। বহু সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বহু প্রতিষ্ঠান ছেড়ে। একজন ওস্তাদের কোন সে মায়ার বাধন বেধে রেখেছে সকলকে তা ছিলো এক বিস্ময়।
তারপর খোজ পাওয়া গেলো তুরাগ থানার আওতাধীন কোন একস্থানে আল্লাহর এক বান্দা ৯ বা ১২ বিঘা জায়গা দিতে চান মাদ্রাসা করতে। মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুটি। কোন এক সকালে কাফেলা ছুটে চলে তার পরবর্তী গন্তব্যে।
মোটা দেয়ালের পুরনো আমলের ছোট্ট মসজিদ। একটি গরু ঘর। কাঠাল গাছের ছায়ায় মাঠ। একাধিক পুকুর। গাছের ছায়ায় দিনের বেলা ভরপুর ক্লাশ। রাতে কেউ কেউ মসজিদে জায়গা পেলেও অধিকাংশ গরুর সাথে রুম শেয়ারিং করতেন। বৃষ্টি হলে মাঠে বিছানা করা ছাত্ররা ছুটে চলতো ছাউনির খোজে।
পরবর্তীতে সেই জায়গার মুতাওয়াল্লির মুখে জানা যায় তারা নানার এই ওয়াকফ সম্পত্তি কোন একজনকে দেয়া হয়েছিলো মাদ্রাসা করতে। কিন্তু জায়গার প্রকৃত মালিক তার নানা তাকে স্বপ্নে দেখিয়েছেন "জায়গা ভুল লোকের হাতে পরেছে"। এরপর তিনি একজন প্রকৃত আলেম খুজতেছিলেন যাকে যায়গা হ্যান্ড ওভার করবেন।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালার পরিকল্পনা কতইনা উত্তম।
কি আশ্চর্য! কি অবাক করা সম্পর্ক। কি নিদারুন সুখানুভূতি অষ্টেপৃষ্ঠে বেধে রেখেছে একদল ত্বলেবে ইলমকে। এখন অবশ্য এই স্বাদ আর মজা বুঝার ক্ষমতাও আমাদের থেকে বিলুপ্ত প্রায়।
মজার বিষয় হচ্ছে সে বছর সারা বাংলাদেশে বেফাক বোর্ডে ৩ নং স্ট্যান্ড করেছিলেন সেই কাফেলা থেকে। এভারেজে অসাধারণ রেজাল্টে সাড়া পরে গিয়েছিলো সর্বমহলে। আমি অবশ্য হেফজখানার ছাত্র হওয়ায় হুজুরের নির্দেশে মানিকনগর ছিলাম।
তারপরের ঘটনা সবার সামনে। বারিধারা আর সোবহানিয়া উভয় মাদ্রাসাই এক সময় তার পদধূলি বুকে ধন্য হয়েছে। অপরাধী ছেড়ে দিয়েছে গদি। বারিধারার ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি তাকে তার ধন্য ছাত্রদের সহ জানিয়েছে স্বাগত।
তিনি সবসময়ই এড়িয়ে গিয়েছেন সংঘাত। নির্ভয়ে এগিয়েছেন সামনে। ফোকাস করেছেন মিশনে। সাময়িক কষ্ট ব্যাদনা যাকে তার মানুষ গড়ার মিশন থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি এক রত্যি...
লেখাঃ Amzad Hossain
১৬ই অক্টোবর, ২০২২
#ফিলোসফি_অব_নূর_হুসাইন_কাসেমী
#রিফ্লেকশন_অব_এটিচিউড
#ফাউন্ডেশনে_মাউন্টেন
#স্কিল_অব_সাইলেন্স
#তিনি_শেখা_শিখাতেন
#ইগনোর_ফরওয়ার্ড_ফোকাস_অন_মিশন