আপনি কি জানেন আপনার মূল সমস্যাটা কী?
আপনি অনেক কিছু করতে চান, কিন্তু কিছুই শুরু করতে পারেন না।
একদিকে আলসেমি, অন্যদিকে দিশাহীনতার কারণে সময় আর সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ, আপনার জীবন বদলাতে পারে একটি মাত্র সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য দিয়ে।
চলেন বিষয়টা বুঝি, কীভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয়, অলসতা কাটিয়ে কাজ শুরু করতে হয়, আর নিজের সাফল্য নিয়ে আসতে হয়।
কেন আমরা অলস হই?
অলসতা সব সময়ই ইচ্ছার অভাব নয়। এর পেছনে লুকিয়ে আছে মনস্তাত্ত্বিক কারণ:
- চাপের মধ্যে পড়া।
আমরা যখন একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা করি, তখন মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়। কাজের পরিমাণ দেখে আমরা পিছু হটি।
- স্পষ্ট লক্ষ্য না থাকা।
সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া আমরা জানি না কীভাবে কী শুরু করব। ফলে কিছুই করা হয় না। এজন্যই দেখবেন- স্কুলে কলেজে সিলেবাস নামক একটি জিনিস আছে। কী কী পড়তে হবে তার গাইডলাইন থাকে। আপনার লাইফ সেট করার জন্য এমন একটা সিলেবাস দরকার আসলে। যেটার অভাবে আপনার মধ্যে অলসতা কাজ করে।
- উৎসাহের অভাব।
হতে পারে আপনার মাইন্ডসেট ক্লিয়ার না। বাপের হোটেল আছেন। তাই লাইফ নিয়েও ভাবনা নেই।
এখন বিষয় হলো অলসতা কাটানোর উপায় কী?
- একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন।
গবেষণায় দেখা গেছে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য (Specific Goals) আমাদের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। এই লক্ষ্য হতে পারে:
: আগামী ৫ বছরে নিজের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া।
: ইংরেজিতে ফ্লুয়েন্ট হওয়া।
: শরীরের ওজন ১০ কেজি কমানো।
কীভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন?
•S (Specific): লক্ষ্য স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট করুন।
•M (Measurable): লক্ষ্য পরিমাপযোগ্য হতে হবে।
•A (Achievable): সেটি অর্জনযোগ্য কি না দেখুন।
•R (Relevant): লক্ষ্যটি আপনার জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কি না।
•T (Time-bound): একটি সময়সীমা নির্ধারণ করুন।
- বড় লক্ষ্যকে ছোট ধাপে ভাগ করুন।
একটি বড় লক্ষ্য একবারে অর্জন করা কঠিন। একে ছোট ছোট পদক্ষেপে ভাগ করুন।
•যদি ওজন কমানো আপনার লক্ষ্য হয়, তাহলে প্রথম ধাপ হতে পারে প্রতিদিন ১৫ মিনিট হাঁটা।
•ব্যবসায় সফল হতে চাইলে প্রথম কাজ হতে পারে একটি প্রোডাক্ট লঞ্চ করা।
জাপানি পদ্ধতি “Kaizen” অনুযায়ী প্রতিদিন ছোট ছোট উন্নতি আনার চেষ্টা করুন। দিনে ১% উন্নতি আপনাকে বছর শেষে ৩৬৫% বেশি উন্নত করে তুলবে।
- শৃঙ্খলা আনুন: অভ্যাস তৈরি করুন।
আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রোডাক্টিভ এবং ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করুন। প্রয়োজনে টু ডু লিস্ট বা এলার্মে রিমাইন্ডার সেট করুন।
গবেষণায় দেখা গেছে, একটি অভ্যাস তৈরি করতে প্রায় ২১-৬৬ দিন সময় লাগে। তাই ধৈর্য ধরুন।
- কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নিতে হবে।
নিজের কাজকে উপভোগ করার চেষ্টা করুন। যদি ইংরেজি শেখার লক্ষ্য থাকে, তাহলে মুভি দেখে বা গান শুনে শিখুন।
- নিজের প্রোগ্রেস হচ্ছে কিনা সেটা যাচাই করুন।
প্রতি সপ্তাহে লক্ষ্য পূরণের অগ্রগতি যাচাই করুন। আপনি কতটা এগিয়েছেন, কী কী বাকি আছে তা বুঝুন।
অলসতা একটি বাধা, তবে এটি দূর করা সম্ভব।
সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা, ছোট পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়া, এবং ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা—এই তিনটি মন্ত্রই আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।
এখনই ভাবুন…
আপনার লক্ষ্য কী?
এরপর একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করুন।
অল দ্যা বেস্ট।